১৩.৩ আইনের উৎস হিসাবে হাদিসের প্রভাব (আহলি হাদিস)



ইতিপূর্বেই বলা হইয়াছে যে, আইনের চারিটি মতবাদকে একত্রে বলা হয় ‘আহলি ফিকাহ্’। “আর একটি মতবাদ আছে, যাহা সাধারণতঃ ‘ঐতিহ্যবাদী’ (আহলি হাদিস) রূপে খ্যাত। এই মতবাদ অনুযায়ী, ‘ফিকাহ্’ নহে, রাসূল যাহা বলিয়াছেন তাহাই প্রয়োগ করা প্রয়োজন, যেহেতু মূল অপরিবর্তনীয় আইনসমূহ ইহার মধ্যেই নিহিত আছে। এই মতবাদীগণের বিশ্বাস যে, যাচাইয়ের পর হাদিসের গুরুত্ব কোরানের গুরুত্বের সমপর্যায়ে আসে, এবং সেইহেতু হাদিস অস্বীকার করিলে কোরানকে অস্বীকার করিবার অনুরূপই আমাদের ইমান ও সততা ক্ষতিগ্রস্ত হইবে” (আল-শাফি)। ইহা ব্যতীত তাহাদের বিশ্বাস: “আমাদের মতে হাদিস অবতীর্ণ (নাজিল) হইয়াছিল, এবং ইহাতে যাহা কিছু আছে সমস্তই রাসূল্লাহর নিকট কোরান শরীফের ন্যায় একইরূপে আসিয়াছিল। জিবরাইল আসিতেন পবিত্র কোরান এবং ‘সুন্নাহ্’ সহ, এবং পবিত্র কোরানের ন্যায় একই ভাবে ‘সুন্নাহ্’ কে রাসূলূল্লাহর নিকট তিনি বহন করিয়া আনিতেন। আমরা প্রত্যাদেশ (ওহি) সম্পর্কে কোন প্রকার পার্থক্য অনুমোদন করিনা এবং বিশ্বাস করি যে, কোরান এবং ‘সুন্নাহ্’ উভয়ই সমরূপ কর্তৃত্ব বহন করে”। বুখারী ও মুসলিম দুই সংকলন সম্বন্ধে ইহারা এই মতবাদ পোষণ করে যে, “সকল মতের একতার ভিত্তিতে মুসলিমরা স্বীকার করে যে, এই দুই সংকলিত গ্রন্থের সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হাদিসগুলি বৈধ এবং ইহাদের সত্যনিষ্ঠা সুনিশ্চিত”।

স্মরণ রাখিতে হইবে যে, হাদিসকে ইসলামীয় আইন (শরিয়ত) এর ভিত্তি বলিয়া যাহারা মনে করে তাহারা সকলেই উপরোক্ত মত পোষণ করে না। মওদুদির নিম্নবর্ণিত উক্তি হইতে তাহা প্রতিপন্ন হয়:

“আহাদিস বর্ণনাকারীদের ধারাবাহিকতার মাধ্যমে আসিয়াছে, একব্যক্তি মৌখিকভাবে জ্ঞাতব্য বিষয় অপর ব্যক্তিকে বলিবার ফলে। এই প্রক্রিয়ার উত্তম দিক ইহাই যে, ইহা যাহা কিছু বহন করিয়া আনে তাহা সম্ভাব্য হইতে পারে, কিন্তু সুনিশ্চিত নহে। ইহা অচিন্তনীয় যে ঈমানের ব্যাপারে আল্লাহ্ বিশ্বাসীদিগকে এরূপ অবস্থায় ফেলিবেন যে, তাহারা তাহাদের কার্যধারা নিয়ন্ত্রেণের পন্থা মৌখিক বর্ণনার মাধ্যমে বাহিত বিষয়বস্তুর উপর ভিত্তি করিবে”। তিনি আরও বলেন, “প্রচলিত বিষয়বস্তু রাসূলুল্লাহর অভ্যাস এবং তাঁহার সাহাবীদের কর্মপন্থা নির্ণয়ে সাহায্য করিতে পারে; কিন্তু ইহার উপর পূর্ণ আস্থা স্থাপন করা যায় না। সুতরাং সমালোচনামূলক বিচার ব্যতীতই বুখারির সমস্ত হাদিস গ্রহণ করা উচিত এই দাবী অসমর্থনীয়”।





Home Next >>