৮.১৩ চন্দ্র দর্শন দ্বন্দ (১৪)



ইসলামী পঞ্জিকায়, ঐতিহ্যগতভাবে, খালিচোখে কাস্তের ন্যায় নূতন চাঁদের প্রথম দর্শন হইতে মাসের আরম্ভ হয়। বিশেষতঃ, এইরূপ দর্শন রমজান এবং দুই ঈদ উৎসবের আরম্ভের জন্য একান্ত প্রয়োজন বলিয়া গণ্য করা হয়। যাহা হউক চন্দ্রের চাক্ষুষ দর্শনের উপর নির্ভরশীলতায় আস্থাহীনতা কেবলমাত্র একই দেশের মধ্যে এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ তারিখের মধ্যে বিরাট বিস্তার সৃষ্টি করিয়াছে তাহাই নহে, বিশ্বব্যাপী মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যেও প্রভূত অনৈকের জন্ম দিয়াছে। এই সমস্যার সমাধান সহজেই হইতে পারে যদি একটি সম্পূর্ণ বিজ্ঞানসম্মত পন্থার আনুকুল্যে ঐতিহ্যগত উপায়টি বর্জন করা হয়। বিজ্ঞানসম্মত পন্থাটির ধারা বর্ণনার পূর্বে এ বিষয়ে কোরানের বক্তব্য কি তাহা আমি পর্যালোচনা করিব। ইহার পর বিজ্ঞানসম্মত পন্থাটি কেরানের বক্তব্যের সহিত সামঞ্জস্যহীন কি না তাহা স্থির করা যাইতে পারে।

কোরানের নির্দেশনা:

(৬:৯৬) তিনিই উষাকে (অন্ধকার হইতে) বিছিন্ন করেন। তিনি শান্তি এবং বিশ্রামের জন্য রাত্রি দিয়াছেন, এবং (সময়ের) হিসাব রাখিবার জন্য সূর্য এবং চন্দ্র দিয়াছেন [...]

(১০:৫) তিনিই সূর্যকে আলোকের উৎস এবং চন্দ্রকে একটি প্রতিবিম্বিত আলোক রূপে সৃষ্টি করিয়াছেন এবং চন্দ্রের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ের পরিমাপ দিয়াছেন যাহাতে তোমরা সময়ের গণনা করিতে পার। ইহা তাঁহার গঠনমূলক পরিকল্পনার অংশ ভিন্ন অন্য কিছুই নহে [...]

(৫৫:৫) সূর্য এবং চন্দ্র (সঠিকভাবে) নির্ণিত পথ অনুসরণ করে।

(৯:৩৬) আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টির দিন হইতেই আল্লাহর বিধান অনুযায়ী আল্লাহর নিকট মাসের সংখ্যা বারোটি [...]

(২:১৮৯) তাহারা তোমাকে নতুন চাঁদ সম্পর্কে প্রশ্ন করে। তাহাদিগকে বল: ইহা হজ্জ্ব এবং মানুষের ঘটনাসমূহে নির্দিষ্ট পর্যায়কাল সূচিত করিবার জন্য চিহ্নবিশেষ [...]

এই সমস্ত আয়াতের তাৎপর্য আলোচনার পূর্বে আমি চন্দ্রদর্শন-সংক্রান্ত পন্থা সমস্যাগুলি এবং একটি বিজ্ঞানসম্মত পন্থা যেরূপে সেগুলির সমাধান করিতে পারে তাহার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র দিতে চাই।

চাক্ষুষ দর্শন-সংক্রান্ত পন্থার সমস্যাগুলি:

খালি চোখে চন্দ্র দৃষ্টিগোচর হইবার জন্য সূর্যাস্তের পর চন্দ্র অস্ত যাইতে হইবে। এই দুই অস্ত সময়ের মধ্যে পার্থক্য যত ক্ষুদ্রই হউক না কেন কিছু কিছু ব্যক্তি চান্দ্রমাসের আরম্ভের সংজ্ঞা নিরূপণ করিতে এই অবস্থার ব্যবহার করেন। দুর্ভাগ্যবশতঃ, এই প্রণালী পৃথিবীর উপর ব্যক্তির অবস্থানস্থলের উপর নির্ভরশীল, এবং সেই কারণে ইহার যথার্থতায় বৈষম্যের সম্ভাবনা সদা বর্তমান। কিরূপে সূর্যাস্ত ও চন্দ্রাস্তের সংজ্ঞা নিরূপিত হইবে, এবং বায়ুমণ্ডলীয় প্রতিসরণের জন্য বিবেচনা রাখিতে হইবে কিনা (যেমন, উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, জ্যোত্যির্বিদ্যা-সংক্রান্ত পঞ্জিকায় প্রকৃতরূপে নয়, প্রথাগতরূপে হইয়া থাকে) ইহা সেই বিতর্কেরও জন্ম দেয়। যদি প্রকৃত প্রতিসরণ নৌসারণীর (নাবিকদের পঞ্জিকা) প্রথাগত হিসাবে ব্যবহৃত অনুমানগত প্রতিসরণ অপেক্ষা কম অথবা বেশী হয়, তাহা হইলে যথাযথ ভাবে তালিকাভুক্ত সময় অনুযায়ী সূর্যাস্ত নাও হইতে পারে।

চন্দ্রকলা (প্রথম দিনের চাদ, crescent moon চাক্ষুষ দর্শনলাভের জন্য আর একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনাগ্রাহ্য হইতে হইবে, ‘সংযোগ’ conjunction (সংজ্ঞা নিম্নে দ্রষ্টব্য) আরম্ভ হইবার মুহুর্ত হইতে চন্দ্রের বয়সকাল। “চন্দ্রের এই বয়সকালের নীতি বিভিন্ন ব্যক্তির দ্বারা বিছিন্নভাবে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নির্ধারিত হইয়াছে, এবং সচরাচর একটি সাধারণ নিয়মের আকারে বর্ণিত হয় যেমন, ২০ ঘন্টার কম বয়সের চন্দ্রদর্শন বিরল, এবং ২৪ ঘন্টার অধিক বয়সের চন্দ্রদর্শন অসাধারণ নহে, যদিও চাক্ষুষ দর্শনলাভের জন্য ইহার বয়স কোন কোন সময়ে ৩০ ঘন্টার অধিক হইবার প্রয়োজন হইতে পারে”। ১৫

এইরূপে, সংযোগ এবং পরবর্তী সূর্যাস্তের মধ্যে সময়ের পার্থক্যের ভিত্তিতে, চন্দ্রকলার চাক্ষুস দর্শনের সমস্যা কতকগুলি কারণের দ্বারা সংঘটিত হইতে পারে; দিগন্তরেখা হইতে চন্দ্রকলার সঠিক অবস্থাকাল; বায়ুমণ্ডলের স্বচ্ছতা এবং দর্শকের চক্ষুর তীক্ষ্নতা। উদাহরণস্বরূপ, প্রত্যুষের অতিপ্রথম লগ্নে সংযোগ হইলে, একই দিনে চন্দ্রকলা দর্শনীয় হইতে পারে, কিন্তু ইহা সূর্যাস্তের সময়ের নিকটবর্তী হইলে, চন্দ্রদর্শনে, অতি সম্ভবতঃ, পরবর্তী দিনে সংঘটিত হইবে। চন্দ্রকলা সংযোগের দিন অথবা তাহার পরবর্তী দিন দর্শনীয় হইবে কিনা ইহা নির্দেশ করিবার সীমারেখা বিচার করিয়া স্থির করিবার কোন উপায় নাই। চাক্ষুষ দর্শন প্রণালী অদ্যকার যুগে সর্বতোভাবে সামঞ্জস্যহীন এবং ইহার পরিবর্তে এইরূপ কোন প্রণালীর প্রয়োজন যাহা কোরানে বর্ণিত নীতিসমূহ লঙ্ঘন করে না। এই বিষয়ে আরও পর্যালেচনা করা যাউক:

বিজ্ঞানসম্মত অথবা জ্যোতির্বিদ্যাসম্মত প্রণালী: বিজ্ঞানসম্মত প্রণালী একটি প্রাকৃতিক অবস্থার উপরে নির্ভর করে যখন পৃথিবী, সূর্য এবং চন্দ্র একই খাড়া সমতলে অবস্থান করে, কিন্তু একই সরল রেখায় অবস্থান নাও করিতে পারে, এবং চন্দ্রের অবস্থান পৃথিবী এবং সূর্যের মধ্যবর্তী স্থানে থাকে। এই অবস্থাই ‘সংযোগ’ (conjunction) নামে পরিচিত। বিজ্ঞানসম্মত পরিভাষায় “সংযোগের সংজ্ঞা সেই অবস্থা দ্বারা নিরূপিত হয় যখন সূর্য এবং চন্দ্র একই ‘সঠিক আরোহণে’ (Right Ascension) উপস্থিত হয়”। ১৬ ফলতঃ, এই অবস্থাই চান্দ্রমাসের আরম্ভ সূচনা করে। অধিকন্তু এই অবস্থার সূচনামূহুর্ত নিখুঁতভাবে নির্ণয় করা যাইতে পারে, যাহা ভুমণ্ডলস্থ অবস্থানকালের উপর নির্ভরশীল নহে। বস্তুতঃ ইহা এতই নির্ভুল যে সংযোগের ব্যবহার দ্বারা বহু শতাব্দীর জন্য চান্দ্রপঞ্জিকা নির্ণয় করা সম্ভব।

বিজ্ঞানসম্মত প্রণালীর তাৎপর্য: প্রথমতঃ ইহা স্বীকার করা প্রয়োজন যে, যে পর্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত প্রণালী চন্দ্রকলার উপস্থিতি সম্বন্ধে নির্ভুল আশ্বাস দিতে পারিবে, সে পর্যন্ত খালি চক্ষে চন্দ্রকলা দেখা যাউক বা না যাউক চান্দ্রমাসের সূচনা গৃহীত হইবার অবস্থা পরিপূর্ণ হইবে। সংযোগ কালে পৃথিবী হইতে দেখিলে চন্দ্র সম্পূর্ণ ছায়াচ্ছন্ন হয় না। তথাপি ইহা যে মাত্রায় আলোকিত হয় তাহা এতই স্বল্প যে আমাদের জন্য ইহা সম্পূর্ণ অদৃশ্য থাকে। ইহার পর চন্দ্রের পূর্বমুখী আপাতগতি, সূর্য ও পৃথিবীর চন্দ্রের আপেক্ষিক জ্যামিতিক অবস্থানের পরিবর্তনের মাধ্যমে আলোকিত চন্দ্রথালির আকারে রূপান্তর ঘটাইয়া থাকে। এই সমস্ত পরিবর্তনকে ‘চন্দ্রের দশা বা কলা’ বলা হয় এবং ইহার সূচনা মূহুর্তের চন্দ্রকলাই ইসলামীয় নূতন চন্দ্র। অতএব, সংযোগের অব্যবহিত পরেই, খালি চোখে চন্দ্রকলা দর্শনীয় না হইলেও ইহা যে আকাশে বর্তমান, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নাইসুতরাং বিজ্ঞানসম্মতভাবে বলিতে গেলে, আমরা চন্দ্রকলা বাস্তবেই উপস্থিত বলিয়া মনে করিতে পারি এবং আমাদের একমাত্র যাহা জানা প্রয়োজন তাহা ইহার উপস্থিতির নির্ভুল মূহুর্ত।

সৌভাগ্যবশতঃ, সংযোগ এবং চন্দ্রকলার উপস্থিতির অন্তর্বর্তী কাল অত্যন্তই স্বল্প এবং তাহা নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব। সূর্য হইতে দূরে সরিয়া যাইতে চন্দ্রের যে সর্বোচ্চ সময় লাগে তাহা ১৯ মিনিট, সুতরাং সংযোগ-মুহুর্তের ১৯ মিনিট পর হইতেই, চন্দ্র পৃথিবীর দিকে আলোক প্রতিফলিত করিতে থাকে। অন্য কথায় বলিতে গেলে, বিজ্ঞানসম্মতভাবে, চন্দ্রকলার আরম্ভ সংযোগ মুহুর্তের ১৯ মিনিট পরেই হইয়া থাকে, যদিও ইহার আলোক ২০ হইতে ৩০ ঘন্টার পূর্বে দৃশ্যমান নাও হইতে পারে। যুক্তরাজ্যে কয়েক বৎসরের সংযোগের সময় রয়াল এ্যাস্ট্রোনমিকাল অবজারভেটরী (Astronomical Observatory) হইতে পাওয়া যাইতে পারে। যদি ধরিয়া লওয়া যায় যে দ্বিপ্রহর রজনী ১২.০০ ঘটিকায় দিবসের পরিবর্তন হয়, তাহা হইলে কোন বিশেষ দিনে সংযোগ ০০.০০ ঘটিকা হইতে দ্বিপ্রহর রজনী ১২.০০ মধ্যে যে কোন সময় হইতে পারে। ইহার অর্থ চন্দ্রকলার আবির্ভাব রাত্রি ০০.১৯ ঘটিকা হইতে পরদিবস রাত্রি ০০.১৯ ঘটিকার মধ্যে যে কোন সময় হইতে পারে। অতএব সংযোগ-মুহুর্তের ১৯ মিনিট পরেই নূতন চন্দ্রের আবির্ভাব হয়অতএব, রমজান অথবা অন্য কোন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা পরবর্তী দিবসে আরম্ভ হইতে পারে, অর্থাৎ সংযোগের পরদিবস। এইরূপ একটি প্রণালী বহুপূর্বেই আমাদের প্রয়োজনীয় তারিখগুলি সহজে প্রকাশ করিতে সহায়তা করিবে যাহার ফলে জনগণ অযথা অসুবিধাগ্রস্থ হইবে না। সর্বশেষে বলিতে হয়, আল্লাহ্ আমাদের জন্য স্বস্তি চাহেন, অস্বস্তি নহে (২:১৮৫)। যুক্তরাজ্যের বাহিরে আন্তর্জাতিক ঘটনাবলীর জন্য যেরূপ সময়ের ব্যবধান যোগ বা বিয়োগ করা হইয়া থাকে, সেইরূপ সংযোগ-সময়কে যথাযথভাবে স্থানীয় সময়ে পরিবর্তণ করিয়া লইতে হইবে। যদিও সংযোগ কোনও ভূমণ্ডলীয় অবস্থানস্থলের উপর নির্ভরশীল নহে, তবুও বিভিন্ন দেশসমূহের মধ্যে যে সময়ের পার্থক্য বর্তমান, সেই কারণে আন্তর্জাতিক সময়ের বিভিন্নতা প্রযোজ্য হইবে।

অবশেষে যদি — যেমন কিছু কিছু ব্যক্তি বলিয়া থাকেন –দ্বিপ্রহর রজনী ১২.০০ ঘটিকা দিবসের পরিবর্তন সময় হিসাবে গ্রহণযোগ্য নহে, তাহা হইলে ১২.০০ ঘটিকার পরিবর্তে অন্য একটি বিশেষ সময় নির্দিষ্ট করিতে হইবে, যাহা অন্যান্য ক্রিয়াকর্মের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হইবে। যাহা হউক ইহার মূলনীতি একই থাকিবে, অর্থাৎ চান্দ্রমাসের আরম্ভ হিসাবে সংযোগের ব্যবহার। কোরানের নির্দেশ সময়ের পরিমাপের জন্য সূর্য এবং চন্দ্র উভয়ের ব্যবহারের পক্ষে সমর্থন দেয়। সংযোগের নিভুল মুহুর্তের ব্যবহার করিলে তাহাই করা হয়, কারণ সূর্য এবং চন্দ্র যে মুহূর্তে সঠিক আরোহণে উপস্থিত হয় সংযোগ সেই মুহূর্তেই আরম্ভ হয়। দ্বিতীয় শর্ত এই যে নূতন চন্দ্র সময়ের নির্দিষ্ট পর্যায়কাল চিহ্নিত করিবে ইহাও পূর্ণ হয়, যেহেতু চন্দ্রকলা সংযোগের ১৯ মিনিট পর আরম্ভ হইয়া থাকে। খালিচোখে চন্দ্রদর্শন করিতে হইবে, কোরান কোথাও ইহা বলে নাই, ইহা বিজ্ঞানসম্মত অথবা জ্যোর্তিবিদ্যাসম্মত প্রণালীর দিকেই ইঙ্গিত দেয়। কোরানে বহু আয়াত আছে যাহা আমাদিগকে চিন্তা করিতে, বিবেচনা করিতে, অনুসন্ধান করিতে এবং জ্ঞানলাভ করিতে উৎসাহ দেয়, এবং চন্দ্রদর্শনের ব্যাপারে ইহা প্রতিভাত হওয়া উচিৎ।

(৪৫:১৩) তিনি তাঁহার নিকট হইতে আকাশ ও পৃথিবীর সমস্ত কিছুই তোমাদের প্রয়োজনীয়তা ও উপযোগিতার জন্য নিয়ন্ত্রিত করিয়াছেন: নিশ্চয়ই ইহাতে চিন্তাশীর মানুষের জন্য বহু নিদর্শন রহিয়াছে।

(৩:১৯০) পৃথিবী এবং গগনমণ্ডলের সৃষ্টিতে এবং রাত্রি এবং দিনের পার্থক্যে বোধসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য ইঙ্গিত রহিয়াছে।

(১০:৫) [...] আল্লাহ্ ইহা সত্য ব্যতীত সৃষ্টি করেন নাই। তিনি জ্ঞানীদের জন্য তাঁহার ইঙ্গিত সকল প্রতীয়মান করেন।

References: (প্রসঙ্গ সূত্র)

১. The True Translation of the Glorious Our’an, by Late Ali Ahmad
Khan Jullundri. Published by World Islamic Mission, 18-K
Gulberg 2, Lahore, Pakistan. Refer to notes on verse (5:38).
২. Ibid., verse (5:38).
৩. (i) Arabic English Lexicon, (8 parts), by Edward William Lane.
Published by Islamic book centre, 25-B, Masson Road, P.O. Box
1625. Lahore-3, Pakistan.
৩. (ii) Arabic-English Dictionary: The Hans Wehr Dictionary of
Modern Written Arabic. Edited by J. M. Cowan. Published by
Spoken Language Services, Inc. P.O. Box 783. Ithaca, New York.
৪. Does the Qur’an sanction the hitting of women? by Rachael
Tibbet. p.l.
৫. Letter to Al-Balaagh, Nov/Dec 1996 issue. P.O. Box 1925,
Lensia 1820, South Africa by Dr. Sayed Abdul Wadud. (Lahore,
Pakistan).
৬.. Letter to Al-Balaagh, Nov/Dec 1996 issue. P.O. Box 1925,
Lensia 1820, South Africa by Basheer Ahmed Vania. (Lensia,
South Africa).
৭. Most of the Qur’anic verses are taken from: The Message of the
Quran
, by Muhammad Asad. Published by Dar Al-Andalus,
Gibralter.
৮. Women in Islam, by B. Aisha Lemu and Fatima Heeren.
Published by The Islamic foundation, 223 London Road, Leicester
LE2 1ZE. p.28.
৯. Ibid., p. 28, 29.
১০. Is Hijab Compulsory? Article by Professor Dr. Ibrahim B. Syed Phd. D.Sc. Published in Al-Balaagh, Vol. 22, No.l, Feb/March 1997. P.O. Box 1925, Lensia, South Africa.
১১. Jihad, Haji Ibrahim Golightly: A question – answer printed in the Message, the UIA magazine of July – September issue, 1995.
১২. The Religion of Islam, by Maulana Muhammad Ali M.A., LL.B. Published by National Publication and Printing House U.A.R. Based on chapt. 5. p. 545-595.
১৩. A pamphlet on: The Islamic view on the Prohibition of alcohol. by S.M. Bleher. Published by UK Islamic Mission Dawah Centre, 401-403 Alum Rock Road. Birmingham B8 3DT.
১৪. The Islamic Tradition of “Moon Sighting” and its implication,
by M A. Malek.
১৫. A modern Guide to Astronomical Calculations of Islamic
Calendar, Times & Qibla
, by Dr. Mohammed Ilyas.
Berita Publishing Sdn, Bhd. Kuala Lumpur, Malaysia.
16. Same as 15. p.10.





Home Next >>