৭.২ আদম



ধর্মগ্রন্থমতে, আদম আল্লাহর সৃষ্ট প্রথম মানুষ। আল্লাহ তাঁহার জন্য একজন স্ত্রী সৃষ্টি করেন এবং অনুমান করা হয় যে সমগ্র মানবকূল তাঁহাদেরই বংশধর। আদম প্রথম নবীরূপেও পরিচিত, কারণ তিনি ও তাঁহার স্ত্রী আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করিবার ফলে বেহেশত হইতে বিতাড়িত হইবার পর আল্লাহর প্রত্যাদেশের মাধ্যমে তিনি আবার নির্দেশপ্রাপ্ত হন। বর্তমান মানবগোষ্ঠি আদম ও তাঁহার স্ত্রী হইতে উদ্ভূত, এই ধারাগত ব্যাখ্যা জৈবিক এবং অন্যান্য কারণে অসমর্থনীয় মনে হয়। সুতরাং, ইহার একটি রূপক ব্যাখ্যা অনুসন্ধানের প্রয়োজন; এবং মনে হয় পারভেজের ব্যাখ্যা, কোরানের (২:৩০-৩৯) আয়াতের বর্ণনা সমূহের সহিত মিলিয়া যায়। এই ব্যাখ্যায় আদম অর্থে পুরুষ এবং তাঁহার স্ত্রী অর্থে নারী, ফেরেশতাদিগকে (মালায়েকা) প্রকৃতির শক্তিসমূহ এবং ‘ইবলিশ’ বা ‘শয়তান’কে নিম্নস্তরের প্রবৃত্তিসমূহ হিসাবে ধরা হয়।

মানুষকে দেওয়া হইয়াছিল স্বশাসন ও স্বাধীন ইচ্ছা প্রয়োগের ক্ষমতা কিন্তু প্রকৃতির শক্তিসমূহ ছিল আল্লাহর অধীনস্থ, যাহাদের ইচ্ছাশক্তির স্বাধীনতা ছিল না। যদিও প্রকৃতির শক্তিসমূহ মানুষের অধীনস্থ নহে তথাপি মানুষ ইহাদের শক্তি নিজের সুবিধার জন্য কাজে লাগাইতে সক্ষম। যখন মানুষকে প্রথম পৃথিবীতে বাস করিতে দেওয়া হইল, তাহার জীবন ধারণের উপায় ছিল বহু এবং চাহিদা ছিল অত্যন্ত সীমিত। অবশেষে মানুষের নিম্নস্তরের প্রবৃত্তিসমূহ তাহার উপর প্রভুত্ব বিস্তার করিল এবং স্বার্থপরতার বশবর্তী হইয়া মানুষ স্বকৃত পদ্ধতি অনুসারে জীবন ধারণ শুরু করিল। ফরে, তাহারা শান্তিময় জীবন হারাইয়া ফেলিল এবং মানবজাতি পরস্পরের মধ্যে শত্রুতা সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়, গোত্র, ও জাতিকে বিচ্ছিন্ন হইয়া পড়িল। মানুষ যখন তাহার শান্তিময় জীবন হারাইল, তাহাকে বলা হইল:

(৭:৩৫) হে আদম সন্তানেরা! তোমাদের নিকট তোমাদের মধ্য হইতে যদি আল্লাহর এমন বার্তাবাহকগণ আসেন এবং তোমাদিগকে আল্লাহর প্রত্যাদেশসমূহ বর্ণনা করেন; তখন যে কেহ অসৎ কার্য হইতে বিরত থাকিবে এবং নিজেকে সংশোধন করিয়া লইবে; তাহার জন্য কোন দুঃখ বা ভয়ের কারণ ঘটিবেনা।

(২০:১২৪) কিন্তু যে আমার (আল্লাহর) স্মরণ হইতে বিমুখ হইবে, তাহার জীবন সঙ্কুচিত হইবে এবং পুনরুর্থানের দিন আমি তাহাকে অন্ধ করিয়া সকলের সম্মুখে সমবেত করিব।

“অতএব ইহাই আদমের প্রতীকরূপী বর্ণনা এবং ইহাই তাহার তাৎপর্য”।





Home Next >>