১৩. ইসলামে আইন প্রণয়ন



১৩.১ ভূমিকা

“ইসলামী আইন-বিজ্ঞানের উৎস দুই প্রকার। কোরান ও হাদিস (Traditions) প্রাথমিক উৎসরূপে প্রথমটির অন্তর্ভুক্ত। অন্যান্যগুলি দ্বিতীয় উৎসের অন্তর্ভূক্ত, যেমন ‘ইজমা’, অর্থাৎ আইন-বিশেষজ্ঞদের সর্বসম্মত এবং সদৃশ ঘটনা হইতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ। ইহার সহিত নিরপেক্ষতা এবং দেশাচার যোগ দেওয়া যাইতে পারে যাহা ‘হানাফি’ ও ‘মালিকি’ মতবাদের ভিত্তি। এই সকল উৎস সম্বন্ধে গবেষণা করাই ছিল একটি বিশেষ বিজ্ঞানের বিষয়, যাহাকে বলা হয় ‘ইলম্-আল্-উসুল্’, এবং ইহা হইতে উৎপন্ন হইয়াছে ‘ইজতিহাদ’, অথ্যাৎ আইন-বিষয়ক উৎস সমূহের ব্যাখ্যার প্রচেষ্টা এবং ধর্মীয় ও আইনগত বিষয়সমূহের সঠিক সমাধান আবিষ্কার। সুতরাং ইসলামের আইনগত ইতিহাসের ‘ইজতিহাদ’ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যাহা আইনকে সভ্যতার প্রয়োজনে উপযোগী করিয়া তুলিতে পারে। ‘ইজতিহাদ’ই আব্বাসিদ যুগের ইসলামী আইন-বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষতার একটি প্রধান কারণ। কিন্তু ত্রয়োদশ শতাব্দিতে বাগদাগের পতনের পর ইসলামী সভ্যতার অবক্ষয় হইতে থাকে, এবং গোড়া ‘সুন্নী’ আইন বিশেষজ্ঞরা একমত ধারণ করেন যে আইন প্রণয়নে হানাফি, মালিকি, শাফি ও হানবালি, এই চারিটি সুপরিচিত সুন্নী চিন্তাধারাই যথেষ্ট। অতএব তাহারা ইজতিহাদের দরজা বন্ধ করিবার বিষয়ে একমত হন এবং নূতন ব্যাখ্যা নিষিদ্ধ করা হয়। ফলে, বিবেচনাহীন এবং দাসত্ব-সুলভ অনুকরণ ‘তাকলিদ’ প্রসার লাভ করে”।

উপরে বর্ণিত চার দলকে একত্রে ‘আহলি ফিকাহ্’ বলা হয়। পরবর্তী কালে ‘আহলি হাদিস’ নামে অপর একটি ‘সুন্নী’ দলের আবির্ভাব হয়। অনুরূপভাবে ‘শিয়া’রাও পাঁচটি বিভিন্ন সম্প্রদায়ে বিভক্ত হয়, যথা ‘কায়সানিয়া’, ‘যায়দিয়া’, ‘ইমামিয়া’ ‘ইসমাইলিয়া এবং ‘ঘালি’ (এক্ষণে অবলুপ্ত)।





Home Next >>