১১. পাঁচ স্তম্ভ



হাদিস সাহিত্য ইসলামকে পাঁচটি মুলনীতির মধ্যে আবদ্ধ করিয়াছে, এবং এইগুলি ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ বলিয়া খ্যাত। বুখারী ১ম খণ্ড হইতে হাদিস নং ৭ নিম্নে উদ্ধৃত করা হইল:

ইবনে উমরের বর্ণনা: আল্লাহর রাসূল বলিলেন: ইসলামের ভিত্তি (নিম্নের) পাচটি (মূলনীতি)র উপর:

১. সাক্ষ্য দাও যে আল্লাহ্ ব্যতীত আর কেহ ইবাদতের যোগ্য নহে এবং মোহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল।

২. সালাত (জামায়াতে অবশ্য করণীয়) কর্তব্য রূপে ও সঠিকভাবে পালন করা।

৩. রমজান মাসে রোজা রাখা।

৪. যাকাত প্রদান করা (বাধ্যতামূলক দান)।

৫. হজ্জ্ব পালন করা (মক্কাশরীফে তীর্থযাত্রা)।

এই পাচটি মূলনীতির কথা বুখারীর নিম্ন-বর্ণিত হাদিস সমূহেও পুনরুল্লিখিত হইয়াছে (১ম খণ্ড, ৫০নং), (২য় খণ্ড, ৪৮০ নং), (৬ষ্ঠ খণ্ড, ৩০০নং) এবং আরও কিছু হাদিসে। হাদিসের মতে ইসলামের ভিত্তি হইল: ১) ঈমান (বিশ্বাস), ২) নামাজ, ৩) রোজা, ৪) যাকাত, ৫) হজ্জ্ব।

মুসলিম সাধারণের একটি ভ্রান্ত ধারণা এই যে, কোরান একটি তত্ত্ববিষয়ক গ্রন্থ, কারণ ইহাতে বিশদ বর্ণনা নাই, এবং হাদিস গ্রন্থসমূহই বাস্তব জীবনে আমাদের ইসলাম চর্চা করিবার পদ্ধতিগুলো জানায়। ইহার ফলে মুসলিমরা কোরান হইতে নিজেদের বিছিন্ন করিয়াছে, এই বিশ্বাসে যে হাদিস গ্রন্থ পাঁচ স্তম্ভ অনুশীলন করিবার সমস্ত নিয়মই দিয়াছে। মুসলিম শিশুদের অর্থ না বুঝিয়া তোতাপাখির ন্যায় কোরান পড়িতে শিক্ষা দেওয়া হয়, ফলে অল্প কয়েকজন ব্যতীত, অধিকাংশেরই নামাজে কি আবৃতি করা হয় তাহার কোন ধারণাই থাকে না। দুঃখের বিষয়, ইহাতে প্রোমাণ হয় যে আমাদের মধ্যে অধিকাংশেরই কোরানে প্রদত্ত নির্দেশাবলী বিষয়ে কোন জ্ঞান নাই। অল্প কয়েকজন, যাঁহারা কোরান বিষয়ে জ্ঞানী, তাঁহারা সামাজিক পীড়নের ভয়ে মুক্তভাবে কিছু বলিতে সাহস করেন না। এবং যতদিন জনগণের অধিকাংশ কোরানের শিক্ষা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকিবে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পক্ষে তাহাদিগকে শাসন করা অপেক্ষাকৃত সহজ হইবে।

পাঁচটি মূলনীতির বিশ্লেষণের পূর্বে দৃঢ়ভাবে বলা প্রয়োজন যে, এই পাঁচটি বিভাগ ইসলামের পূর্ণ চিত্র দিতে কেবল অপারগ তাহাই নহে, উপরন্তু কোরান অনুযায়ী ইহাদের যে সত্য অর্থ তাহাও বিকৃত করে। প্রকৃতপক্ষে এইগুলি এমনভাবে কেবলমাত্র চরম আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হইয়াছে, যে কোরানের অন্যান্য মৌলিক শিক্ষাসমূহ সম্পূর্ণরূপে অবহেলিত হয়, ফলে আমাদের দৈনদিন্দন জীবনে অধঃপতন হইতেছে।





Home Next >>