৬. কোরানের মূল শিক্ষাসমূহ



কোরানের মূল বার্তাসমূহ হইল বিশ্বাস, প্রার্থনা এবং সৎকার্য, যাহা সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রযোজ্য। এই বিষয়ের আয়াতগুলিই কোরানে সর্বাপেক্ষা অধিক সংখ্যার। সংখ্যাগরিষ্ঠতার অনুপাতে এই আয়াতগুলিকে নিম্নরূপে বিভক্ত করা যায়:

(ক) বিশ্বাস ও সৎকার্য
(খ) প্রার্থনা ও সৎকার্য
(গ) প্রার্থনা

ইহা হইতে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় :

. ‘বিশ্বাস’ এবং ‘সৎকার্য’ ইসলামের অবশ্যপুরণীয় মূল শর্ত। বহু আয়াত ইহা দৃঢ়ভাবে প্রতিপন্ন করে। প্রাথমিক শর্ত আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, এবং এই সূত্রে আল্লাহর প্রত্যাদেশসমূহে, তাঁহার বার্তাবাহকগণকে, এবং বিচার দিবসে আমাদিগকে অবশ্যই বিশ্বাস করিতে হইবে।

(২:১৭৭) তুমি তোমার মুখ পূর্বে না পশ্চিমে ফিরাও তাহাতে ধর্মপরায়ণতা নাই, কিন্তু ধর্মপরায়ণ সেই ব্যক্তিই যে আল্লাহ্, বিচার-দিবস, ফেরেস্তা, ধর্মগ্রন্থ ও নবীগণের প্রতি বিশ্বাস রাখে এবং তাঁহারাই প্রেমে আত্মীয়, এতিম, অভাব-গ্রস্থ, মুসাফির এবং প্রার্থনাকারীদের নিজ সম্পদ হইতে দান করে; এবং ক্রীতদাসদের মুক্তি দেয় ও ‘সালাত’ প্রতিষ্ঠিত করে ও ‘যাকাত’ প্রদান করে। এবং যাহারা সন্ধি করিলে তাহা পূর্ণ করে এবং দুরবস্থা, বিপর্যয় ও সংকটে ধৈর্য ধারণ করে। তাহারাই সত্যপরায়ণ এবং তাহারাই আল্লাহ্-ভীরু (মুত্তাকীন)

. প্রার্থনা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সৎকার্য ব্যতীত কেবল প্রার্থনায় বিশেষ ফল নাই। প্রকৃত পক্ষে, প্রতিটি সৎকার্য আল্লাহর প্রতি আমাদের বাধ্যতার নিদর্শন (ইবাদত)। এমনকি আমরা জীবিকা অর্জনের জন্য যাহা করি তাহাও ইবাদত যদি তাহা সৎভাবে করা হয়। নীচের আয়াতসমূহ উপরের সিদ্ধান্তগুলির গুরুত্ব প্রতিষ্ঠিত করে।

(৪:৯৫) বিশ্বাসীদিগের মধ্যে শারীরিক ভাবে অক্ষম ব্যতীত অন্য যাহারা অলসভাবে সময় কাটায়, তাহারা, ধনসম্পদ ও জীবন দ্বারা যাহারা আল্লাহর পথে প্রচেষ্টা করে তাহাদের সমকক্ষ নহে। যাহারা ধনসম্পদ ও জীবন দ্বারা আল্লাহর পথে প্রচেষ্টা করে আল্লাহ্ তাহাদিগকে, যাহারা অলসভাবে জীবন যাপন করে, তাহাদের ঊর্দ্ধে স্থান দান করেন। আল্লাহ্ প্রত্যেকেরই মঙ্গলের প্রতিশ্রুতি দিয়াছেন ; কিন্তু যাহারা স্থাণুর ন্যায় জীবন যাপন করে তাহাদের তুলনায় সংগ্রামশীলদিগের তিনি অধিকতর ফল দিবেন।

(৩:২০০) তোমরা যাহারা বিশ্বাস কর ! ধৈর্য ধারণ কর এবং ধৈর্যে অন্যসকলকে অতিক্রম কর; প্রস্তুত হও, এবং আল্লাহর প্রতি তোমাদের কর্তব্য পালন কর, যাহাতে তোমরা সফলকাম হও।

(৪:১২৪) যে কেহই সৎকর্ম করে, পুরুষ অথবা নারী, এবং সে যদি বিশ্বাসী হয়, এইরূপ ব্যক্তি বেহেশতে প্রবেশ করিবে এবং তাহাদের প্রতি সামান্যতমও অবিচার করা হইবে না।

(৩৪:৪) যাহাতে তিনি বিশ্বাসী এবং সৎকর্মশীলদিগকে পুরস্কৃত করিতে পারেন। তাহাদের জন্য ক্ষমা ও প্রচুর ব্যবস্থা রহিয়াছে।

উপরিক্ত আয়াতগুলির অনুরূপ আরো বহু সংখ্যক আয়াত আছে, যেমন: (২:২২৭), (৪:৯,৯৩), (৪:৫৭,১২২), (৪:১২৪, ১৭৩), (৭:১৫৩), (১৭:৯), (১৮:২,৩০), (১৯:৯৬), (২০:৭৫,১১২), (২২:১৪,২৩,৫৬), (২৪:৫৫), (২৫:৭০), (২৯:৭,৯,৫৮), (৩০:১৫,৪৫)।

পরবর্তী দুইটি অংশ একান্তভাবে ডাঃ মাহার আব্দুল হকের “পবিত্র কোরানের শিক্ষামূলক দর্শন” (Educational Philosophy of the Holy Qur’an) গ্রন্থের উপর ভিত্তি করিয়া লিখিত। ডাঃ হক্ উদ্ধৃত আয়াতগুলির সম্পূর্ণ অনুবাদের পরিবর্তে তাহাদের সারমর্মে গুরুত্ব দিয়াছেন। পরিবার, বন্ধু, প্রতিবেশী, আত্মীয়, পরিচিত জন ও বিদেশীদের সহিত কিরূপ ব্যবহার করিতে হইবে; ইহা ব্যতীত আমরা কিরূপ জীবন যাপন করিব এ বিষয়ে কোরান আমাদিগকে যে শিক্ষা দেয়া ৬.১ অংশে কোরানের সেই নির্বাচিত অংশ দেওয়া হইয়াছে। ৬.২ বিভাগে মানবাধিকার সম্পর্কে কিছু আয়াত আছে। কোরানই মানুষকে প্রদত্ত মুক্তির প্রথম সনদ। ইহা জাতি, ধর্ম্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, পেশা নির্বিশেষে সকল মানব অধিকার রক্ষা করিবার জন্য ইসলামী দ্বীনকে নির্দেশ করে।

এই অংশে ব্যবহৃত সকল আয়াত সম্পূর্ণরূপে স্বচ্ছ; কোনরূপ একাধিক অর্থ বিহীন। তা সত্ত্বেও আমরা এই গুলির পরিবর্ত্তে রূপক আয়াতগুলি সম্পর্কে অধিকতর ব্যস্ত থাকি, যে সম্পর্কে আমাদের কোন জ্ঞান নাই। আল্লাহ এ বিষয়ে কি বলিতেছেন, লক্ষ্য করা যাউক:

(৩:৭) তিনিই এই গ্রন্থ আপনার (মোহাম্মদ) নিকট প্রকাশিত করিয়াছেন, যাহাতে সুস্পষ্ট বর্ণনাসমূহ বিদ্যমান—এইগুলি এই গ্রন্থের তাৎপর্য ও সারাংশ—এবং অন্যগুলি রূপক। কিন্তু যাহাদের অন্তরে সন্দেহ আছে, তাহারা ব্যাখ্যা করিবার মাধ্যমে মতভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে রূপক আয়াতগুলি অনুসরণ করে। কিন্তু আল্লাহ ব্যতীত ইহার ব্যাখ্যা কেহই জানেনা। এবং যাহারা জ্ঞানে সুপ্রতিষ্ঠিত তাহারা বলে: আমরা ইহা বিশ্বাস করি; সমস্তই আমাদের পালনকর্তার নিকট হইতে আসিয়াছে। কিন্তু কেবলমাত্র জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিগণই কর্ণপাত করে।

৬.১ আচার-ব্যবহারের উপর মূল শিক্ষা

পারস্পারিক যোগাযোগ, ব্যবহার এবং মনোভাব

(৪:৮৬) যখন তোমাকে বিনয়সূচক শুভেচ্ছা জানান হয়, তাহার উত্তরে অধিকতর বিনয়সূচক শুভেচ্ছা জানাও, অথবা (অন্ততঃ) এইকরূপ শুভেচ্ছা।

(২৪:৬১) এমন কি নিজ গৃহে প্রবেশ করিলেও, ইহা কর (শুভেচ্ছা প্রদর্শন), (২৪:২৭) অথবা যদি অন্যের গৃহে প্রবেশ কর।

(২৫:৬৩) অথবা এমন কি যদি একজন অজ্ঞ মানুষও তোমাকে সম্বোধন করে।

(৪:৯৪) যে কেহই তোমাকে শুভেচ্ছা জানায় তাহাকে বলিওনা: “তুমি বিশ্বাসী নও”।

(৪৯:৯) যদি বিশ্বাসীদিগের মধ্যে দুইটি দল কলহ করে, তবে তাহাদের মধ্যে শান্তি স্থাপন কর। কিন্তু যদি এক দল অপর দলের বিরুদ্ধে সীমা লঙ্ঘন করে, সীমা লঙ্ঘনকারী দলের বিরুদ্ধে সংগ্রাম কর যে পর্যন্ত না ঐ দলটি আল্লাহর হুকুম মান্য করে। কিন্তু যদি ঐ দল তাহা মান্য করে তবে ন্যায় ও সঠিকভাবে তাহাদের মধ্যে শান্তি স্থাপন কর।

(৪৯:১০) সকল বিশ্বাসীরাই পরস্পর ভাই ভাই।

(৩৩:৭০) সর্বসময় সঠিক কথা বলিবে (সরাসরি রূপে)। (২২:৩০) মিথ্যা কথা বর্জন কর।

(১৭:৫৩) যাহা উত্তম সেই সব কথাই বলিবে। মানুষের সহিত ন্যায্য কথা বলিও।

(৩১:১৯) গলার স্বর নীচু কর এবং তোমার আচরণে সংযত হও।

(৬:১৫২) যখনই তোমরা কথা দাও, ন্যায়পরায়ণ হইও, এমন কি যদি ইহাতে তোমাদের আত্মীয়দের বিরুদ্ধে যাইতে হয়।

(২৪:২৭) অনুমতি ব্যতীত কাহারও গৃহে প্রবেশ করিও না।

(২:৪২) সত্যকে মিথ্যা দ্বারা আচ্ছাদিত করিও না, কিংবা সত্যকে গোপন করিও না, যখন তোমরা ইহা জান।

(৩১:১৮) অন্যের নিকট হইতে তোমার মুখ অবজ্ঞায় সরাইয়া লইওনা, এবং গর্বভরে মাটিতে চলিও না। আল্লাহ্ অহঙ্কারী ও দাম্ভিকদের ভাল বাসেন না।

(৬:১৫১) লজ্জাকর কার্যে জড়িত হইওনা, সে প্রকাশ্যেই বা গোপনে হউক। (৭:৩৩) লজ্জাকর কার্য এড়াইয়া যাও।

(২৩:৩) দম্ভপূর্ণ বাক্য পরিহার কর। (২৮:৫৫) দম্ভপূর্ণ বাক্যে কর্ণপাত করিওনা।

(২৫:৭২) মিথ্যা অপকর্মে যোগ দিও না। কোন নিরর্থক কার্যের সম্মুখীন হইলে তাহা অতি ভদ্রভাবে এড়াইয়া যাও।

(২৪:১৯) অপবাদ ছড়াইও না।

(১৭:৩৭) মাটির উপর দর্পের সহিত চলিবে না কারণ তুমি মাটিকে দীর্ণ করিতে পারিবে না, অথবা পর্ব্বতের ন্যায় উচ্চতা লাভ করিতে পারিবে না। (২৫:৬৩) মাটির উপর নম্রতার সহিত চলাফেরা কর।

অসাক্ষাতে নিন্দা, মিথ্যা অপবাদ, ঈর্ষা, ইত্যাদি

(৪:১৪৮) অন্যায় ও অবিচার ব্যতীত জনগণের মধ্যে বক্তৃতার জোর গলায় অপরের নিন্দাবাদ প্রচার করিও না।

(৪৯:১১) এক ব্যক্তির উচিত নয় অন্য ব্যক্তিকে লইয়া হাসি ঠাট্টা করা। হয়তো তাহারাই উহাদের চাইতে উত্তম হইতে পারে।

(৯:৭৯) নিন্দা এবং উপহাস করিও না।

(৪৯:১২) যতদূর সম্ভব সন্দেহ হইতে দূরে থাক, এবং পরস্পরের বিরুদ্ধে গোপন অনুসন্ধান চালাইও না, অথবা অসাক্ষাতে একে অপরের কুৎসা গাহিও না।

(৪৯:১১) একে অপরের দুর্ণাম বা বিদ্রুপ করিও না। একে অপরকে অবজ্ঞাসূচক নামে ডাকিও না।

(২৪:৪,২৩) চরিত্রবান নারীর প্রতি মিথ্যা অপবাদ আনিও না।

(৪:৫৪) আল্লাহ্ তাঁহার প্রাচুর্য হইতে মানুষকে যাহা দিয়াছেন তাহা লইয়া ঈর্ষা করিও না।

(২৪:১২.১৫,১৬) প্রত্যেককে নির্দোষ ভাবিও যতক্ষণ না তাহার বিরুদ্ধে দোষ প্রমাণিত হয়।

(৪৯:৬) কোন দুষ্ট ব্যক্তি তোমার নিকট সংবাদ লইয়া আসিল উহার সত্যতা যাচাই করিয়া লইও।

(৪:১১২) যদি কেহ দোষ অথবা পাপ করিয়া তাহা নির্দোষ ব্যক্তির উপর চাপায় সেক্ষেত্রে তাহাকে মিথ্যা এবং নিদারুণ পাপ এই উভয়েরই বোঝা বহন করিতে হইবে।

স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা, আহার ও পান

(২:২৪৭) জ্ঞান ও স্বাস্থ্য প্রচুর ধন-সম্পদ অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর।

(১৬:৬৯; ২৬:৮০) অসুস্থ হইয়া পড়িলে প্রাকৃতিক নিয়মে সুস্থ হওয়ার প্রচেষ্টা কর।

(৯:১০৮) পবিত্রতা শরীর মন ও হৃদয়ে। (৪:৪৩; ৫:৬) পরিচ্ছন্নতা।

(২:১৭৩, ৫:৩, ৬:১৪৫, ১৬:১১৫) কিছু কিছু বস্তু, যেমন শুকর ও মৃতজীবের মাংস নিষিদ্ধ।

(৫:৯০, ৯১) উত্তেজক পানীয় ও মদ নিষিদ্ধ।

(২:১৬৮) পৃথিবী হইতে উপকারী ও ন্যায়সঙ্গত খাদ্য ভোগ কর।

(৭:৩১) আহার এবং পান কর, কিন্তু অপচয় করিও না।

স্বামী-স্ত্রী, সন্তান-সন্তুতি, পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীবৃন্দ

(৩০:৩১) “আল্লাহ্ তোমাদের মধ্য হইতে তোমাদের জন্য সঙ্গী সৃষ্টি করিলেন, যাহাতে তোমরা তাহাদের সহিত শান্তিতে বসবাস করিতে পার, এবং তিনি তোমাদের মধ্যে প্রেম ও করুণা স্থাপন করিলেন”।

(২৫:৭৪) “ স্ত্রী ও সন্তানেরা আমাদের চক্ষুর শান্তনা”। (২:১৮৭) স্বামী ও স্ত্রী পরস্পরের আচ্ছাদন।

(৬:১৫১) তোমাদের পিতা-মাতার সহিত সদ্ব্যবহার কর।

(১৭:২৩,২৪) তোমাদের পিতা-মাতাকে তাহাদের বৃদ্ধাবস্থায় তিরস্কার করিও না।

(২:৮৩) তোমাদের পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের সহিত সদয় ব্যবহার কর।

(১৭:২৬) আত্মীয়-স্বজনদের, অভাবগ্রস্থদের ও মুসাফিরদের তাহাদের প্রাপ্য দান কর এবং (তোমার সম্পদ) উচ্ছৃঙ্খলভাবে অপব্যয় করিও না।
(৪:৩৬) প্রতিবেশীদের সহিত সদ্ব্যবহার কর, তাহারা আত্মীয়ই হউক বা অনাত্মীয়।

এতিম ও অভাবগ্রস্থ

(৯৩:৯) এতিমের সহিত কঠোর ব্যবহার করিও না।

(৬:১৫২) উন্নতি বিধানের চেষ্টা ব্যতীত এতিমের সম্পত্তির নিকটে আসিও না, যতদিন না সে সাবালক হয়।

(২:৮৩) অভাবগ্রস্থদের সহিত সদয় ব্যবহার কর।

(৯৩:১০) আবেদনকারীকে (শ্রবণ না করিয়া) বিতাড়িত করিও না।

(৫১:১৯) সম্পদ এবং সম্বলের মধ্যেই অভাবগ্রস্থদিগের অধিকার।

(২:২৭৩) অভাবগ্রস্থ যাহারা আল্লাহর কাজে সীমাবদ্ধ থাকে এবং দেশের মধ্যে ঘোরাফিরা করিতে পারে না তাহাদের জন্য (দান) প্রয়োজন। তাহাদের বিনম্রতার কারণে অজ্ঞ লোকেরা মনে করে যে, তাহারা অভাবগ্রস্থ নহে। তোমরা তাদের চিনিবে তাহাদের বিশিষ্টতা দ্বারা, তাহারা কাকুতি মিনতি করিয়া মানুষের নিকট ভিক্ষা চাহেনা।

(২:২৬৩-২৬৪) আঘাত সহ দানের অপেক্ষা দয়ার্দ কথা ও দোষ-ত্রুটি ঢাকিয়া দেওয়া উৎকৃষ্টতর। তোমার বদান্যতার কথা স্মরণ করাইয়া অথবা আঘাত দিয়া তোমার দান বিনষ্ট করিও না।

ঋণ

(২:২৭৫) সুদ নিষিদ্ধ।

(২:২৮২) ভবিষ্যত দায়-দায়িত্ব বিষয়ে সমস্ত আদান-প্রদান লিখিত রাখিও।

(২:২৮০) যদি কোন ঋণ গ্রহীতা কষ্টে পড়ে, তাহাকে সময় দাও যে পর্যন্ত না তাহার পক্ষে উহা পরিশোধ করা সহজসাধ্য হয়। আর যদি ঋণ ক্ষমা করিয়া দাও তবে তোমাদের পক্ষে তাহা আরও কল্যাণকর।

(৫:১; ৬২:৫) তোমাদের প্রতিজ্ঞা রক্ষা করিও এবং দায়-দায়িত্ব সম্পাদন করিও।

বিবিধ

(৬:১৪১; ১৭:২৬,২৭,২৯; ২৫:৬৭) (কৃপণের ন্যায়) তোমার হস্থ মুষ্টিবদ্ধ রাখিও না, অথবা উহা তাহার শেষ সীমা পর্যন্ত প্রসারিত করিও না।

(৪২:৩৮) পারস্পারিক আলোচনা দ্বারা তোমাদের কাজ-কর্ম সম্পাদন করিও।

(৫:২) সৎকার্য ও ধর্মাচরণে পরস্পরকে সাহায্য কর; কিন্তু পাপ ও ঘৃণা-বিদ্বেষে সহযোগিতা করিওনা।

(৬:৭০) যাহারা তাহাদের ‘দ্বীন’কে কেবলমাত্র খেলার সামগ্রী ও আমোদ-প্রমোদ মনে করে এবং জাগতিক জীবন দ্বারা প্রতারিত হয় তাহাদের বর্জন করো।

(৪:১৪০) যখন আল্লাহর নিদর্শন সমূহ অস্বীকৃতি ও বিদ্রূপের বিষয় হয়, তখন ইহা শ্রবণ করিলে তোমরা তাহাদের সহিত একত্রে বসিও না, যে পর্য্যন্ত না তাহারা অন্য প্রসঙ্গে যায়।

(২:১৩৬,২৮৫; ৩:৮৪; ৪:১৫০,১৫২) নবীদিগের মধ্যে পার্থক্য করিও না।

(১৮:২৯; ২:২৫৬) ধর্মে (দ্বীন) কোন বাধ্য-বাধকতা নাই।

(১৬:১২৫) জ্ঞান ও সুন্দর বাক্যের দ্বারা সকলকে তোমার প্রতিপালকের পথে আহবান কর এবং তাহাদের সহিত এরূপভাবে বিতর্ক কর যাহা সর্বাপেক্ষা উত্তম ও সুশোভন।

(২:৪৪) মানুষকে সৎ আচরণের বিষয় নির্দেশ দিয়া নিজে ইহা চর্চা করিতে ভুলিয়া যাইও না।

(৩:১৬৭) অন্তরে যাহা নাই কখনও তাহা মুখে বলিয়া ভণ্ড হইও না।

(৫:১০০) যাহা মন্দ তাহা কখনো যাহা ভাল তাহার সমতুল্য হয় না, এমনকি যদিও মন্দের আধিক্য তোমাকে অভিভূত করে।

(৩১:২০; ৪৫:১২,১৩) বিশ্বের রহস্যের জয়ের মাধ্যমে মানুষের মঙ্গল।

৬.২ মানবাধিকার

(৩৩:৩৫) পুরুষ ও নারীর সমানাধিকার (আরও অনেক আয়াতে একই সঙ্গে পুরুষ ও নারীর বিষয় উল্লিখিত আছে)।

(৪৬:১৩,১৯) সম্মান ও মর্যাদা কেবল তাহারই প্রাপ্য, যাহার “ক্রিয়া কর্ম” তাহাকে এই বৈশিষ্ট্য অর্জনের যোগ্যতা দেয়।

(৩৯:৭০) কাহারও পরিশ্রমের সুফল অস্বীকার করা হইবে না, বা তাহা হইতে তাহাকে বঞ্চিত বা অনধিকারভুক্ত করা হইবে না। প্রত্যেক ব্যক্তিকে তাহার “কর্মফল” পূর্ণরূপে দেওয়া হইবে।

(১৬:৯০) প্রত্যেকের প্রতি সুবিচার করিতে হইবে। (৪:৫৮; ৫:৮) মানুষে মানুষে ন্যায়ের সহিত বিচার করিবে।

(৬:১৫২) এবং তুমি যদি কথা দিয়া থাক, সে বিষয়ে ন্যায়পরায়ণ থাকিও; এমন কি যদি ইহা একজন আত্মীয়ের বিরুদ্ধেও যায়।

(১৬:৯০) ন্যায়পরায়ণতাই যথেষ্ট নহে, ইহার সহিত সদয়ভাব ও বদান্যতাও প্রয়োজন।

(৭:৮৫; ১৭:৩৫; ৬:১৫২) ন্যায়ের সহিত পূর্ণ পরিমাণ এবং সঠিক ওজন প্রদান করিবে।

(২:২৮৬) একের ভার অন্যের উপর চাপানো হইবে না। আর কেহ বহিতে পারিবেনা এমন ভার তাহার উপর চাপানো হইবে না।

(৬:১৫২; ১৭:৩১) সামাজিক বিধি-ব্যবস্থা হইতে প্রত্যেকের জীবন যাপনের জন্য অপরিহার্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাবী এবং অধিকার আছে।

(২:১৮৮; ৫:৩২; ৬:১৫২) জীবন ও সম্পত্তির প্রতিরক্ষা। (২;৮৫) কাহাকেও তাহার গৃহ হইতে নির্বাসিত করা যাইবে না।

(৭:৩২) সৌন্দর্যের উপলব্ধি, এবং সৌন্দর্যবোধবিশিষ্ট রুচি।

(২:২৫৬; ৯:৬; ১০:৯৯; ১৬:১০৬; ১২৫; ১৮:২৯) ধর্ম বিষয়ে স্বাধীনতা।

(৪:১৪৮) অত্যাচারিতের অভিযোগ ব্যতীত আল্লাহ্ কাহারও কঠিন উক্তি পছন্দ করেননা।

(২৪:১২) দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ হিসাবে গণ্য হইবার অধিকার।

(৬:১৬৫) ব্যক্তিগত দায়িত্ব। (১৭:৩৪) সকল প্রতিজ্ঞা, অঙ্গীকার ও দায়-দায়িত্ব প্রতিপালন করিতে হইবে।

(২:২০৫) ফসল ও সন্তান সন্ততির প্রতিরক্ষা। (২৪:২,৪; ৩৩:৫৯) সতিত্ব সংরক্ষণ।

(২:২১৭; ৩:৯৯) আল্লাহর পথ হইতে কাহাকেও প্রতিরোধ করা যাইবে না।

(১৭:২০) আল্লাহর অবারিত সম্পদের প্রাচুর্য হইতে কাহাকেও রহিত বা বঞ্চিত করা যাইবে না।

(৩০:২২) বর্ণ ও ভাষার বিভিন্নতা আল্লাহর নিদর্শন।

দ্রষ্টব্য: ৬.১ এবং ৬.২ বিভাগের তালিকা সম্পূর্ণ নহে। কোরানে এইসকল বিষয়ে আরো অনেক আয়াত আছে।

References: (প্রসঙ্গ সূত্র)
১. Educational Philosophy of the Holy Qur’an, by Dr. Mahar Abdul Haq. Published by Naushaba Publication, D.D.A. Flats, New Ranjit Nagar, New Delhi – 110008. p. 194-201.
২. Ibid.,p. 192,193.





Home Next >>