২০. উপসংহার



এই পুস্তক কোরান অধ্যয়ন করিবার একটি প্রচেষ্টা যাহা ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত ভাবে আমাদের জীবনের বিভিন্ন দিকের সহিত জড়িত। ইহা কোরানকে বুঝিবার জন্য একটি অনুশীলন পদ্ধতিও অবলম্বন করিয়াছে এবং এ জন্য একটি মুক্তমন বা পূর্ব-কল্পিত ধারণা বর্জিত মনের অবশ্য প্রয়োজন।

ইসলাম মানজাতির জন্য জীবনধারার একটি প্রণালী। প্রচলিত অর্থে ধর্ম বলিতে যাহা বুঝায় ইহা সেইরূপ কোন ধর্ম নহে। এই একটি সম্পূর্ণ পদ্ধতি, এই অর্থে যে, ধর্ম ও রাষ্ট্র এরূপ ভাবে সমন্বিত হইয়াছে যাহাতে একটিকে অন্যটি হইতে বিচ্ছিন্ন করা যায় না। এক কথায় ইহাকে বলা হয় ‘দ্বীন’, যাহা মানবজাতির জন্য মঙ্গলজনক একটি জীবন-ধারা। এরূপ একটি পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব আল্লাহর, মহাবিশ্বের প্রতিপালক।

যাঁহাদের উপর একটি ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব অর্পিত হইবে তাঁহাদের অবশ্য চরিত্রগত গুণ, সামর্থ ও সততা থাকিতে হইবে যাহাতে তাঁহারা কোরানের মূল নীতিসমূহের কোনরূপ আপোষ করিবেন না। এজন্য একটি ইসলামী রাষ্ট্রের অধিবাসীদের নিজ নিজ অধিকার সম্পর্কে অবশ্যই সচেতন থাকিতে হইবে, যাহাতে কোরানে বর্ণিত সরলপথ হইতে শাসন কর্তাদের কোনপ্রকার অবাঞ্ছিত বিচ্যুতি জনমতের চাপে নিবারিত হইতে পারে। অধিকন্তু, এরূপ একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব হইবে যদি প্রথমে আমরা আমাদের নিজস্ব সত্তা, অর্থাৎ ‘নাফস’ এর, আভ্যন্তরীন বিপ্লবাত্মক পরিবর্তন না আনিতে পারি। প্রকৃত পক্ষে যাহারা এই কার্যক্রমে (program) স্থিরবিশ্বাসী তাহারা ইহা নিজেদের দৈনন্দিন ক্রিয়াকলাপে প্রতিফলিত করেন। মুসলিমদের জন্য সর্বপেক্ষা মৌলিক প্রয়োজন হইতেছে দৃঢ়ভাবে একত্রিত থাকা, বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত না হওয়া। এই গ্রন্থের ষোড়শ পরিচ্ছদে ও কতকগুলি পূর্বোদ্ধৃত আয়াতে এই বিষয় পরিষ্কার ভাবে বলা হইয়াছে। প্রকৃতপক্ষে এই শর্ত এতই গুরূত্বপূর্ণ যে যাহারা তাহাদের ‘দ্বীন’কে শ্রেণীবিভক্ত বিভক্ত করে, তাহাদের সঙ্গ পরিত্যাগ করিবার জন্য রাসূলকে তাঁহার জীবিত অবস্থায় নির্দেশ দেওয়া হইয়াছিল।

(৬:১৫৯) সত্যই, যাহারা তাহাদের ঈমানের একতা ভগ্ন করিয়াছে এবং শ্রেণীবিভক্ত হইয়াছে –তাহদের সহিত আপনার কোন সংশ্রব নাই।

ইসলামের মূল উদ্দেশ্য হইল মানুষে মানুষে যে বিভেদ আছে তাহার সমন্বয় সাধন, যাহাতে একটি সত্যকার ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। সেইজন্য ইসলামে গোত্র, বর্ণ, লিঙ্গের কোন স্থান নাই। ইসলাম কেবল ইহাই গণ্য করে যে: “তোমার দ্বীন কী এবং তুমি এই পদ্ধতিতে বিশ্বাস কর কি না”?

এইরূপ একটি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা কোন ব্যক্তির জীবনকালে সম্ভব নহে বলিয়া মনে হইতে পারে, কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, ইহা সম্ভব। প্রকৃত পক্ষে, প্রায় ১৪০০ বৎসর পূর্বে ২৩ বৎসরের মধ্যে মদিনায় এরূপ একটি রাষ্ট্রের উদ্ভব হইয়াছিল। সেই সময় অবস্থিত একটি সমৃদ্ধ সমাজ বহির্মুখীভাবে বিস্তৃত হইয়া একটি শক্তিশালী বিশ্বসাম্রাজ্যে পরিণত হইল। আমরা একটি জনগোষ্ঠির রূপান্তর সম্বন্ধে আলোচনা করিতেছি যাহারা তাহাদের কন্যাসন্তানদিগকে বালুকাগর্ভে সমাধিস্থ করিবার জন্য কুখ্যাতি লাভ করিয়াছিল! তবুও শিক্ষাদীক্ষাহীন এবং অজ্ঞতার (জাহেলিয়া) অন্ধকারে সম্পূর্ণরূপে নিমজ্জিত এই সব জনগণই বিজ্ঞান, কারিগরী বিদ্যা ও কর্মোদ্যেগের রক্ষকরূপে রূপান্তর লাভ করিল। দুঃখের বিষয়, এইরূপ একটি রাষ্ট প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর, ৩০ বৎসরের মধ্যে তাহা ভাঙ্গিয়া পড়িল কেন? (এই ৩০ বৎসর যে সময় একটি সত্যকার ইসলামি রাষ্ট্র বর্তমান ছিল তাহার নির্দেশ করে। ইহার পরিসমাপ্তি ঘটে খলিফা হযরত আলির পর)। ইহার উত্তর সহজ। এই সময়ের পরে রাষ্ট্রের দ্রুত বিস্তৃতির সহিত দুর্নীতির বীজের আবির্ভাব ঘটিয়াছিল। যাহারা ক্ষমতায় আসিয়াছিল তাহারা তাহাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ঐ ক্ষমতা বজায় রাখিতে চেষ্টা করিল। যে সব ধর্মীয় গোষ্ঠী পূর্বে ছিলনা, তাহাদের সৃষ্টি হইল। কল্পনাতীত পরস্পর বিধ্বংশী যুদ্ধবিগ্রহ সমাজের কাঠামো বিনষ্ট করিয়া দিল। এই অবক্ষয়ের তালিকা বহুগুণ বৃদ্ধি করা যাইতে পারে। এইরূপে কোরানে বর্ণিত সকল মূল নীতিই লঙ্ঘিত হইল। কিন্তু একটি নির্ভরযোগ্য প্রণালীর আরম্ভকালীন গতিবেগ (Momentum), তাহাকে বহুদূর চালিত করিয়াছিল; ১৯২৪ খৃষ্টাব্দে খলিফার পদের বিলুপ্তির সাথে সাথে ইহার চূড়ান্ত ধ্বংশ সাধিত হয়।

ইহুদিগের ন্যায় মুসলিমরাও এখনও মনে করে যে আমরা আল্লাহর প্রিয় বান্দা এবং একদিন আমরা আমাদের হৃত-গৌরব ফিরিয়া পাইব। আমরা এখনও পরিষ্কার রূপে বুঝিতে পারি বলিয়া মনে হয় না যে আল্লাহ্ কেবল তাহাদেরই প্রার্থনা মঞ্জুর করেন যাহারা সত্য পথে থাকে, অর্থাৎ যাহারা আল্লাহর বিধান মানিয়া চলে। সকল প্রকার অপকর্ম করিয়াও যদি আমরা মনে করি যে, প্রার্থনার মাধ্যমে সকল সমস্যার সমাধান হইয়া যাইবে, তাহা হইলে আমাদের সমস্যার কখনও সমাধান হইবে না। প্রকৃত পক্ষে, আল্লাহ্ কেবল তাহাদেরই অনুগ্রহ করেন যাহারা তাহার আইন-কানুন মান্য করিয়া চলে। যে আয়াতে আল্লাহ্ বিশ্বাসীদের প্রতিশ্রুতি দিয়াছেন যে তাহারা কৃতকার্য হইবে, তাহা তখনই হইবে যদি বিশ্বাসীগণের এমন একটি সম্প্রদায় থাকে যাহারা আল্লাহর কর্মসূচি (program) পালন করিতে প্রস্তুত হইবে।

(২৪:৫৫) আল্লাহ্ অঙ্গীকার করিয়াছেন, তোমাদের মধ্যে যাহারা বিশ্বাসী ও সৎকর্মশীল, তিনি তাহাদিগকে কৃতকার্য করিবেন, যেরূপ তিনি তাহাদের পূর্বগামীদিগকে কৃতকার্য করিয়াছিলেন এবং তিনি নিশ্চয়ই তাহাদের জন্য যে দ্বীন মনোনীত করিয়াছেন, তাহাকে প্রতিষ্ঠিত করিবেন এবং তাহারা যে ভীত অবস্থার মধ্যে ছিল তাহা নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ করিবেন।

এবং বিশ্বাসীদের জন্য আল্লাহর একটি চুক্তি রহিয়াছে।

(৯:১১১) স্মরণ রাখিও আল্লাহ্ বিশ্বাসীদের নিকট হইতে জান্নাতের বিনিময়ে তাহাদের জীবন ও ধন-সম্পদ ক্রয় করিয়াছেন।

(৪৮:২৮) [...] যাহারা বিশ্বাসী ও সৎকর্মশীল আল্লাহ্ তাহাদের জন্য ক্ষমা ও অগাধ পুরষ্কার ওয়াদা করিয়াছেন।

আমরা চুক্তির মধ্যে আমাদের (ঈমান ও সৎকার্যের) অংশ পূর্ণ করিলে, তবেই আল্লাহর অনুগ্রহ আমাদের উপর বর্ষিত হইবে, অন্যথায় নহে। এবং ইহা যে কোন ব্যক্তির জন্যই সত্য। যেহেতু ইসলাম সংজ্ঞা অনুযায়ী বিশ্বজনীন, যে কোন সমাজ, ‘দ্বীন’ এর মূল নীতি সমূহ পালন করিলেই, মুসলিম বলিয়া গণ্য হইবে। এবং যখন বিশ্বাসীদের একটি সমাজ প্রতিষ্ঠিত হইবে ও তাহারা আল্লাহর ‘দ্বীন’ পালনে প্রস্তুত থাকিবে, তখনই কৃতকার্যতা আসিবে, অন্যথায় নহে।

বৈষয়িকভাবে পাশ্চাত্যের বর্তমান সাফল্য দেখিয়া মনে হইতে পারে যে, ইহার শক্তি ও সমৃদ্ধি অদূর ভবিষ্যতেও সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকিবে। ইহা ইচ্ছা-প্রসূত চিন্তাধারা। পাশ্চাত্য দেশসমূহ বিজ্ঞান, কারীগরি ও প্রাকৃতির বিষয়ে গবেষণার মাধ্যমে, অবশ্যই কৃতকার্যতা লাভ করিয়াছে এবং তাহার সুফলও অর্জন করিয়াছে, যেরূপ কোরানে নিশ্চিত ভাবে বলা হইয়াছে, জ্ঞান ও গবেষণার দ্বারা যে কেহই সুফল লাভ করিবেযদি আমরা সঠিকভাবে কাজ করি, তবেই আমরা উপকৃত হইব অন্যথায় নহে। একসময় মুসলিমরা তাহাদের পূর্ণ সমৃদ্ধির যুগে গবেষণাদি করিয়াছিল এবং তাহার সুফলও পাইয়াছিল। ইহারপর হাদিস সাহিত্য মুসলিমদের এইরূপ ইচ্ছা প্রণোদিত চিন্তাধারার বশবর্তী করিল যে, কোরানের নির্দেশ অনুসরণের জন্য পঞ্চস্তম্ভ পালনই যথেষ্ট, এবং অন্য সমস্তই আল্লাহর উপর ছাড়িয়া দিলেই হইবে। এইভাবে বুখারী, মুসলিম প্রভৃতি মুসলিমদের প্রতারিত করিতে কৃতকার্য্য হইয়াছেন, যেমন পল খৃষ্টানদিগের বর্তমান বিশ্বাসকে রূপায়িত করিতে সক্ষম হইয়াছিলেন।

পাশ্চাত্যের দৃষ্টিগোচর হয়না যে ধ্বংসের বীজ তাহাদের ধনতান্ত্রিক পদ্ধতির মধ্যেই নিহিত আছে, যে পদ্ধতি কোরানে বর্ণিত বহু মূল নীতিই লঙ্ঘন করে, যথা সমতা, নিরপেক্ষতা ও ন্যায়পরায়ণতা। আজ সমাজের অধিকারের পরিবর্তে ব্যক্তিগত স্বার্থপরতার অধিকারই অধিকতর লক্ষণীয়। যৌন দুর্নীতি, মাদকাশক্তি, বেশ্যাবৃত্তি, জুয়া ইত্যাদি কয়েকটির নাম করা যাইতে পারে যাহা স্বাধীনতার নামে ব্যাপকভাবে বরদাস্ত করা হয়। সংবাদ মাধ্যমে যাহা প্রচার করা হয় তাহাই সত্য, আল্লাহর দৃষ্টিতে যাহা ‘সত্য’ তাহা সত্য নহে। আইন অনুযায়ী যে অধিকার তাহা কেবল ধনীরাই পাইয়া থাকে। ব্যবসা কিরূপে চালিত হইতেছে তাহাতে কিছুই আসে যায় না, ব্যবসায়ীদের নিকট ইহা লাভজনক হইলেই হইল। এই তন্ত্রের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ দুর্ঘটনা হইল যে রাষ্ট্র, ব্যাঙ্কসমূহ এবং অর্থের সঙ্গে সংযুক্ত ব্যক্তিগণ যাহা নীতিগর্হিত মনে করা যায়, তাহার সহিত সাদৃশ্যহীন ভাবে সুদ গ্রহণের মাধ্যমে অধিকতর অর্থলাভ করিতেছে। এবং ইহাতেই এই তন্ত্রের ধ্বংশ হইবার সম্ভাবনা নিহিত। এই তন্ত্র বহু দেশকে দরিদ্র করিয়া দিয়াছে, দেশগুলিকে জাতীয় সম্পদের উপর নির্ভরশীল হইতে উৎসাহিত করিবার পরিবর্তে, বিপুল পরিমান ঋণগ্রহণে প্ররোচিত করে ফলে সমস্ত দেশ পরিণামে ঋণের দায়বদ্ধ হইয়া পড়ে। যদি এইরূপ চলিতে থাকে তাহা হইলে পরিশেষে অসঙ্গতি এত বিরাট হইবে যে সমগ্র তন্ত্রটিই ভাঙ্গিয়া পড়িবে। পাশ্চাত্য দেশসমূহ যদি মনে করে যে তাহাদের উৎকৃষ্টতর প্রযুক্তিগত প্রগতি দ্বারা তাহাদের সমৃদ্ধি রক্ষিত হইবে তাহা হইলে তাহারা অতীব ভ্রান্ত। আল্লাহর বিধান কাহারও পক্ষপাতিত্ব করে নাপ্রকৃতপক্ষে, এই সমস্ত বিধান ও নীতি লঙ্ঘন করিবার ফলেই বর্তমানে বহু দুর্বিপাক ও রোগ-ব্যাধি ঘটিতেছে

কোরানে নির্দেশিত দ্বীন সম্বন্ধে যদি এখন সন্ধেহ থাকে যে ইহা একটি কাল্পণিক ধারণা মাত্র, তাহা হইলে একমাত্র উপায় হইল এ পদ্ধতিকে পরীক্ষা করা। এরূপ একটি পদ্ধতি যে কোন ব্যক্তির জীবনকালের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করা যায়, তাহা জগৎবাসীর নিকট প্রত্যক্ষ করা সম্ভব যদি ঐ রাষ্ট্রের, যে রাষ্ট্রই হউক না কেন, অধিবাসীবৃন্দ প্রদত্ত কার্যক্রম (program) সম্পন্ন করিতে দৃঢ়সংকল্প হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে তথাকার অধিবাসীবৃন্দের এই পদ্ধতির প্রতি মনোভাব পরিবর্তন করিবার জন্য একটি গভীর শিক্ষামূলক পরিকল্পনা প্রয়োজন হইবে। ইহার ব্যয়ভার ফলের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হইবে কারণ, ইহার বিরাট দীর্ঘকালীন উপকারিতা, শুধু ব্যক্তিবিশেষ নহে সমগ্র সম্প্রদায়ের জন্যই প্রযোজ্য হইবে। এই পরীক্ষা চলাকালে কিছু ব্যক্তির মনে সন্দেহ জাগিবে, বহিস্থ শক্তির সমূহ বাধা সৃষ্টি করিতে পারে, এবং ইহার জন্য বিশ্বাসীদের অধিকাংশের পক্ষ হইতে প্রগাড় একনিষ্ঠার প্রয়োজন হইবে, কারণ বিশ্বাসীদের প্রভূত বিপত্তির সম্মুখীন হইতে হইবে। কিন্তু যদি তাহারা একত্রিত ও অবিচলিত থাকে তাহা হইলে আল্লাহর সাহায্যে তাহারা কৃতকার্য্য হইবে।

অবশ্যই স্মরণ রাখিতে হইবে যে, কোরান আমাদের ইহজগতে এবং পরজগতে সুন্দর জীবন অর্জন করিতে উৎসাহিত করে। ইহার দৃষ্টান্ত বহুল-ব্যবহৃত দোয়া “রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতাঁও ওফিল আখিরাতি হাসানাতাঁও ওকিনা আজাবান্নার”, অর্থাৎ “হে আমাদের পালনকর্ত্তা, ইহজগত ও পরজগতেও আমাদের মঙ্গল করুন”। এবং কেবলমাত্র আল্লাহর ‘দ্বীন’ এর নিকট সর্বান্তকরণে আত্ম নিবেদনের মাধ্যমেই আমরা ইহা সাধন করিতে পারি। অপর পক্ষে, যদি কোনরূপ দায়বদ্ধ না হইয়া আল্লাহর নিকট প্রার্থনাই করিয়া যাই, এবং পঞ্চস্তম্ভের অনুসরণ করি, তাহা হইলে কোনই সুফল লাভ হইবে না। প্রকৃত পক্ষে, যদি আমরা আল্লাহর সত্যধর্ম (দ্বীন) লঙ্ঘন করিতে থাকি, তাহা হইলে তিনি আমাদের ধ্বংস করিতে থাকিবেন এবং আবার অন্যান্য জাতিকে উন্নত করিবেন, যাহারা তাহার বিশ্বজনীন নির্দেশ পালন করিতে রাজি হইবে।

(৪৭:১৮) যদি তোমরা পথ বিমুখ হও আল্লাহ্ তোমাদের স্থলে অন্য কোন জাতির উত্থান ঘটাইবেন যাহারা তোমাদের মত হইবে না।

আল্লাহর নীচের আয়াতেও বলেন যে ‘দ্বীন’ এর বিশ্বজনীন পদ্ধতি অন্য সকল পদ্ধতির উপর বিজয় লাভ করিবে। মানুষের উদ্ভাবিত অন্য যে কোন প্রকার পদ্ধতি ইহার সহজাত অসঙ্গতি সমূহের কারণে ব্যর্থ হইবে, তাহা যতই নিখুঁত করা হউকনা কেন।

(৯:৩৩) আল্লাহ্ নিজেই তাহার বার্তাবাহকদের নির্দেশনা ও সত্যধর্ম (দ্বীন) সহ পাঠাইয়াছেন, যাহাতে তিনি ইহাকে অন্য সকল ধর্মের উপর আধিপত্য দিতে পারেন, অবিশ্বাসীরা যতই বিরূপ হউকনা কেন।

আল্লাহ্ আমাদের সব কিছুই দিয়াছেন আমাদের জীবন মঙ্গলময় ও শান্তিময় করিবার জন্য; তবুও আমরা তাঁহার বার্তার অতি অল্পই গুরুত্ব দিই এবং তাঁহার গ্রন্থ কদাচিত আন্তরিক ভাবে অনুশীলন করি

(১৭:৮৯) এবং নিশ্চয়ই আমি মানবজাতির জন্য এই কোরানে বিভিন্ন উপমা যোগে বিশদভাবে বর্ণনা করিয়াছি, কিন্তু অধিকাংশ লোক অবিশ্বাস ব্যতীত স্বীকার করে না।

(৪৫:১১) এবং আল্লাহ্ স্বয়ং সমস্থ কিছুই তোমাদের আয়ত্তাধীন করিয়াছেন, যাহাকিছু আসমান ও জমিনে আছে: ইহাতে চিন্তাশীল ব্যক্তিদের জন্য নিদর্শন রহিয়াছে।

(৭:৫২) [...] বাস্তবিকই আমরা তাহাদিগকে একটি গ্রন্থ পাঠাইয়াছি যাহা আমরা জ্ঞান (ইলম্) দ্বারা ব্যাখ্যা করিয়াছি। বিশ্বাসীদের জন্য (ইহা) একটি পথ প্রদর্শক (হুদা) এবং একটি করুণা (রাহমাত)।





Home Next >>