একটি সমীক্ষা

আল-কোরআন

মানবজাতির সার্বজনীন পথনির্দেশক

মোহাম্মাদ আব্দুল মালেক

সংক্ষিপ্ত বিবরণী

এই গ্রন্থের দাবি: কোরান সমগ্র মানবজাতির সঠিক পথ-প্রদর্শনের জন্য একটি বিশ্বজনীন গ্রন্থ। এই উক্তি, অনেকের নিকট যুক্তিহীন বদ্ধমূল ধারণাগত মনে হইতে পারে, বিশেষ করিয়া অ-মুসলিমদিগের নিকট। এই সমীক্ষা কোরানের এই দাবিকে সমর্থন করিবার প্রসঙ্গে কোরানের শিক্ষাকে আমাদের ব্যক্তিগত এবং সমষ্টিগত জীবনের বিভিন্ন ধারা বা দৃষ্টিকোণের পরিপ্রেক্ষিতে পর্যালোচনা করিয়াছে।

কোরানের প্রকৃত উপলব্ধির জন্য, ইহার একটি অনুশীলন পদ্ধতির সহিত আরবী ভাষায় দখল এবং ঐ সমস্ত আয়াতের জ্ঞান প্রয়োজন, যাহা ঐতিহ্যের দরুণ অথবা দৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক তথ্যের জ্ঞানের অভাবে সঠিকভাবে অনূদিত হয় নাই। সুতরাং এই গ্রন্থ পাঠের সময় একটি পক্ষপাতহীন পূর্বনির্ধারিত-চিন্তাশূন্য মুক্ত-মন অত্যাবশ্যক।

যদিও এই সমীক্ষায় আলোচিত বিষয়গুলি কোন মতেই পর্যাপ্ত নহে, তবুও আশা করা যায় যে প্রকৃত জ্ঞান অনুসন্ধানী পুরুষ বা নারী, যিনি কোরানকে যথার্থই পথ-নির্দেশের উৎস হিসাবে গণ্য করিতে প্রস্তুত, তিনি এই গ্রন্থকে একটি প্রারম্ভিক পদক্ষেপ হিসাবে বিবেচনা করিতে পারিবেন।

কোরান হইতে চারিটি আয়াত

(৪৫:১৩) তিনি তাঁহার নিকট হইতে আকাশ ও পৃথিবীর সমস্ত কিছুই তোমাদের প্রয়োজনীয়তা ও উপযোগিতার জন্য নিয়ন্ত্রিত করিয়াছেন: নিশ্চয়ই ইহাতে চিন্তাশীল মানুষের জন্য বহু নিদর্শন রহিয়াছে।

(৪৫:৬) এইগুলি আল্লাহর নিদর্শনাবলী যাহা আমি তোমার নিকট যথাযথভাবে বর্ণনা করিতেছি। সুতরাং আল্লাহ্ এবং তাঁহার নিদর্শনাবলীর পরিবর্তে আর কোন্ হাদিসে বিশ্বাস করিবে ?

(৩:১৮৭) এবং যখন আল্লাহ্, যাহাদিগকে গ্রন্থ দেওয়া হইয়াছিল, তাহাদের অঙ্গীকার গ্রহণ করিয়াছিলেন যে: তোমরা নিশ্চয় ইহা মানুষের মধ্যে প্রচার করিবে এবং ইহা গোপন করিবে না। কিন্তু তাহারা উহা তাহাদের পশ্চাতে নিক্ষেপ করে এবং নগন্য মূল্যে বিক্রয় করে। অতএব তাহারা শুধু ক্ষতি ও অমঙ্গলই লাভ করিয়াছে।

(৯৫:৪-৬) নিশ্চয়ই আমরা মানুষকে উত্তম আকৃতি দিয়া সৃষ্টি করিয়াছি। অতঃপর তাহাকে আমরা নিকৃষ্টতম অবস্থায় আনয়ন করিয়াছি, কেবল তাহারা ব্যতীত যাহারা বিশ্বাস করে ও সৎকার্য করে; তাহাদের জন্য রহিয়াছে নিশ্চিত পারিশ্রমিক (পুরুস্কার)।




































.